জাতীয়

নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্রে তিন উপদেষ্টা: জনমনে গভীর উদ্বেগ, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

শীর্ষস্থানীয় দৈনিক মানবজমিন-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনজন প্রভাবশালী উপদেষ্টার বিরুদ্ধে নির্বাচন বিলম্বিত করা এবং দেশে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সাংবাদিক ও উপস্থাপিকা নবনীতা চৌধুরী তার ইউটিউব চ্যানেল ‘নবনীতার বয়ান’-এ এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন।

প্রতিবেদনে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শিল্প ও গৃহায়ন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। অভিযোগ উঠেছে, তারা এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন যে, খোদ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাঝে মাঝে অসহায় বোধ করতেন।

নবনীতা চৌধুরীর বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, এই উপদেষ্টারা বিদেশি দূতাবাসগুলোতে গিয়ে নির্বাচন না দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিতেন। তারা বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে, দ্রুত নির্বাচন হলে একটি ‘বিশেষ রাজনৈতিক শক্তি’ (বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে) ক্ষমতায় আসবে, যা আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ইতিবাচক হবে না। নির্বাচন আটকানোর জনমত তৈরি করতে তারা প্রভাবিত বা সাজানো জরিপ পরিচালনা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে দেশে ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্যটি উঠে এসেছে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হামলা নিয়ে। নবনীতা জানান, প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার অফিসে যখন হামলা ও অগ্নিসংযোগ চলছিল, তখন পুলিশকে নাকি ওপরমহল থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছাতে। বিখ্যাত সাংবাদিক নূরুল কবিরের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, উপদেষ্টাদের জ্ঞাতসারেই এই মব সন্ত্রাস চলেছে। এমনকি, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে—এই অরাজকতার সময় ড. ইউনূস কিছুই জানতেন না বা তাকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।

এছাড়াও, উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে ঘিরে কিছু ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিতর্ক আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তান সফরে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকদিন নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা গেছে, এমনকি সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসও তার অবস্থান সম্পর্কে অন্ধকারে ছিল। তার স্বামী ও সন্তানের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ভিডিওর শেষ অংশে নবনীতা চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার এই কথিত পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ড. ইউনূস নির্বাচনমুখী হতে বাধ্য হন। তবে এই ষড়যন্ত্রের জাল কতদূর বিস্তৃত ছিল এবং এর পেছনে মূল কুশীলব কারা, তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অভিযোগগুলো জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, যার সুরাহার অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button