জাতীয়

ঈদের দিনে ভুল করছেন না তো? যা জানতেই হবে!

বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান উৎসব ঈদুল ফিতর আজ। আনন্দ, খুশি আর পারস্পরিক সম্প্রীতির এই দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কিছু নির্দিষ্ট আমল ও কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই অজান্তে এমন কিছু করে ফেলেন যা ঈদের পবিত্রতা ও সওয়াব কমিয়ে দিতে পারে।

সঠিকভাবে ঈদ উদযাপনের জন্য কিছু বিষয় জানা অত্যন্ত জরুরি:

**করণীয়:**
১. **পরিচ্ছন্নতা ও গোসল:** ঈদের সকালে গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাকে সজ্জিত হওয়া সুন্নাত।
২. **তাকবির পাঠ:** বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করা ও তাকবির পড়া সুন্নাত। ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ এই তাকবির পাঠ করা উচিত।
৩. **উত্তম পোশাক:** সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন বা পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা। এটি শুধু ফ্যাশন নয়, আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের অংশ।
৪. **তাকওয়ার পোশাক:** বাহ্যিক সাজসজ্জার চেয়েও জরুরি হলো গুনাহমুক্ত থাকা এবং পরিবার-পরিজনকে গুনাহ থেকে রক্ষা করার শপথ নেওয়া।
৫. **ঈদের আগে খাওয়া:** ঈদুল ফিতরের নামাজে যাওয়ার আগে বিজোড় সংখ্যক খেজুর বা কোনো মিষ্টি খাবার খাওয়া সুন্নাত। এটি রোজা শেষ হওয়ার প্রতীকী ঘোষণা।
৬. **ফিতরা আদায়:** নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা। এর মাধ্যমে রোজার ত্রুটি দূর হয় এবং দরিদ্রদের মুখে হাসি ফোটে।
৭. **পথ পরিবর্তন:** ঈদগাহে এক পথ দিয়ে যাওয়া এবং ভিন্ন পথে ফেরা সুন্নাত, যা শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ বাড়ায়।
৮. **প্রতিবেশীর খোঁজ:** আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া ইসলামের নির্দেশ।
৯. **শুভেচ্ছা বিনিময়:** হাসিমুখে শুভেচ্ছা বিনিময় করা ইমানের সৌন্দর্য। ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’ বলে শুভেচ্ছা জানানো সাহাবীদের সুন্নাত।

**বর্জনীয়:**
১. **অতিরিক্ত নফল নামাজ:** ঈদের নামাজের আগে বা পরে ঈদগাহে কোনো নফল নামাজ নেই। ঈদের নামাজের জন্য আজান বা ইকামতও দিতে হয় না।
২. **রোজা রাখা:** ঈদের দিনে রোজা রাখা সম্পূর্ণরূপে হারাম। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে মেহমানদারির দিন।
৩. **ইবাদতে অবহেলা:** নতুন পোশাক বা রান্নার ব্যস্ততায় ঈদের ওয়াজিব নামাজ কাজা করা বা অবহেলা করা উচিত নয়।
৪. **বিদআত ও কুসংস্কার:** ঈদকে কবর জিয়ারতের বিশেষ দিন মনে করা বা ঈদগাহে কোলাকুলি করাকে আবশ্যক ইবাদত মনে করা ঠিক নয়। তবে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কোলাকুলি বা মুসাফাহা করা দোষের নয়।
৫. **অপচয় ও ইসলামবিরোধী কাজ:** ঈদের আনন্দ শরিয়তের সীমানার মধ্যে থাকা চাই। জুয়া বা অপচয় ইসলামে নিষিদ্ধ।

মনে রাখতে হবে, ঈদ কেবল উৎসব নয়, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের একটি বড় সুযোগ। শরিয়তসম্মত উপায়ে এই পবিত্র দিনটি উদযাপন করাই প্রকৃত মুমিনের কর্তব্য।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button