ইউএনও আলাউদ্দিনের ভিডিও ১৯টি আন্তর্জাতিক সাইটে, গুগল ট্রেন্ডে চমকে

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনের অন্তরঙ্গ ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর এক নতুন মোড় নিয়েছে। গত কয়েকদিনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্ন ওয়েবসাইটে এই ভিডিওগুলো আপলোড করা হয়েছে, যাতে সেগুলোর মোট ভিউ কয়েক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। অন্তত ১৯টি স্বতন্ত্র সাইটে এই ভিডিওগুলো প্রকাশ পাওয়ায় বাংলাদেশের বাইরেও গুগল ট্রেন্ডের বিশেষ তালিকায় এসেছে এই নাম।
ভিডিওগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর আলাউদ্দিন শুরুতে দাবি করেছিলেন এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি করা ফুটেজ। পরে গুলেশ চন্দ্র ফোরাম রিপোর্ট জানিয়েছে, তার এমন দুই ক্লিপও সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তে বোঝা গেছে, এই ভিডিওগুলো দুই বছর আগে আলাউদ্দিন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় তার অফিসের এক কর্মচারী তার ডিভাইস থেকে সংগ্রহ করে বিভিন্তি পার্টিতে ফাঁস করেছিল।
দুর্ঘটনাক্রমে এই ঘটনায় আলাউদ্দিনের কর্মজীবনের গতিপথ পাল্টে গেছে। সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাকে ইউএনও পদ থেকে সরিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওগুলোতে তাকে একাধিক নারীর সাথে দেখা যায়, যার কিছু ক্ষেত্রে সাইটে তার নাম এবং বাকি ক্ষেত্রে ভিন্ন শিরোনামে প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, গুগল ট্রেন্ডস থেকে এসেছে আলাউদ্দিন সংক্রান্ত শীর্ষ ২০টি কীওয়ার্ড, যা শুরু থেকেই “ব্রেকআউট” স্ট্যাটাসে রয়েছে। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বেশি মানুষ এই ঘটনা সার্চ করতে শুরু করেছেন। বাংলাদেশের আইনে কারো পর্ন ভিডিও ধারণ বা সংরক্ষণ ফৌজধারী অপরাধ। এ বিষয়ে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মেহেদী হাসান ভুঁইয়া বলেছেন, আলাউদ্দিন সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন এবং ফৌজধারী অপরাধে দুই আইনের তলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
প্রসিকিউটর মহোদয় বলেন, এর ফলে ভুক্তভোগীরা ব্যবস্থা নিতে পারবেন এবং রাষ্ট্রও চাইলে মামলা করতে পারে। যেকোনো থানায় এফআইআর ফাইল করা যাবে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা ওয়েবসাইটে ভিডিও আপলোড করা ব্যক্তিদেরও আসামী করা যাবে। এই ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নৈতিকতা নিয়ে প্রশাসনিক দুশ্চিন্তা ও জনসাধারণের বিশ্বাসের জন্য অপেক্ষার খবর দিচ্ছে।





