জাতীয়

শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি: স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা?

শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সরকার একটি ১৮০ দিনের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী মিলন গতকাল (দিনটি উল্লেখ না থাকলে এই শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে) জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার আধুনিকীকরণ এবং জাতীয় পাঠ্যক্রমের পুনর্গঠনে জোর দেওয়া হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।

মন্ত্রী জানান, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে নৈতিকতা ও অধ্যয়ন অনুশীলন জোরদার করার মাধ্যমে অনৈতিক উপায় অবলম্বন আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যাবে এবং এর জন্য কোনো বিশেষ অভিযানের প্রয়োজন হবে না। শিক্ষা খাতে দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।

শিক্ষকদের রাজনীতিকরণ এবং ক্লাস বর্জন করে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যায়িত করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের প্রাথমিক দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা। শিক্ষকদের যেকোনো দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে, কিন্তু ক্লাস ছেড়ে রাস্তায় নামা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই মন্তব্যের ফলে শিক্ষক সমাজের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করছেন অভিভাবকরা।

কারিগরি শিক্ষায় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার বিদ্যমান ব্যবধান দ্রুত দূর করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। পলিটেকনিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবহারিক শিক্ষার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে এবং শিল্প খাতের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার চালু করা হবে। একটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য সরকার কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা দেশের বেকারত্ব কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

১৮০ দিনের এই মহাপরিকল্পনার আওতায় জাতীয় পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা ও সংশোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘শিক্ষা কমিশন’ গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের তিনটি তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা, জাতীয় পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা ও সংশোধন এবং কারিগরি শিক্ষার আধুনিকীকরণ।

এছাড়াও, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষকের জন্য ‘এক শিক্ষক এক ট্যাব’ কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মনিটরিং জোরদার করা হবে। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা অনিবন্ধিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবং অস্থায়ী কাঠামোতে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের বকেয়া অবসর ও কল্যাণ ভাতা পরিশোধ করাও সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে জানান মন্ত্রী। এই পদক্ষেপগুলো শিক্ষা খাতের শৃঙ্খলা ও মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সাধারণ মানুষ।

সরকারের এই মহাপরিকল্পনা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে কিনা এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কতটা কার্যকর হবে, তা জানতে এখন সময়ের অপেক্ষা।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button