কোরআনের ‘ভুল’ খুঁজতে গিয়ে ‘আত্মসমর্পণ’ করলেন গাজী রাকায়েত!

দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক গাজী রাকায়েত একসময় ধর্মবিরাগী হয়ে উঠেছিলেন, নিজের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে তুলেছিলেন প্রশ্ন। তবে সেই ভাবনা থেকে সম্পূর্ণ সরে এসে এক আমূল পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন তিনি। ২৮টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই নির্মাতা সম্প্রতি এক পডকাস্টের আলোচনায় প্রকাশ করেন, কোরআনের কিছু বিষয় নিয়ে ভুল খুঁজতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই নিজের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ করতে বাধ্য হয়েছেন।
গাজী রাকায়েত জানান, একসময় তিনি কোরআনের বিভিন্ন দিক নিয়ে অসঙ্গতি খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। তবে গভীরভাবে অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণ করার পর তিনি বুঝতে পারেন, যে বিষয়গুলো তার কাছে ভুল মনে হয়েছিল, সেগুলোর পেছনে রয়েছে গভীর অর্থ ও তাৎপর্য। তিনি উপলব্ধি করেন, প্রাথমিক পর্যায়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সীমিত এবং ভাসাভাসা জ্ঞান দিয়ে তিনি কোরআনকে বিচার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন তাফসির ও প্রেক্ষাপট জানার পর তার ধারণা বদলে যায় এবং তিনি বুঝতে পারেন, কোরআনের আয়াত বুঝতে হলে সঠিক জ্ঞান ও প্রসঙ্গ জানা অপরিহার্য। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা তার মতে সত্যকে মেনে নেওয়ার একটি মানসিক পরিবর্তন।
আল্লাহর প্রশংসা করে গাজী রাকায়েত বলেন, “সূর্যের কক্ষপথ আছে কিনা, সেটা মাত্র আবিষ্কার হয়েছে হাবল টেলিস্কোপ আবিষ্কারের পর। তাহলে ১৪০০ বছর আগে কোরআনে কীভাবে বলা হয়েছে—আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি-দিন ও সূর্য-চন্দ্রকে, যা প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।” তিনি আরও দাবি করেন, “পৃথিবীর এমন কোনো বই আছে, যে বই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে নম্বর বা অক্ষরগুলো এদিক-ওদিক করার কোনো সম্ভাবনা নেই? এটা কোনো মানুষের কাজ না। আমি চ্যালেঞ্জ করছি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ম্যাথমেটিশিয়ানদের—ইউ কাম টু মি। আমি তোমাদের সঙ্গে ম্যাথমেটিক্যালি বসতে চাই। কীভাবে একটি কোরআন এত সুন্দরভাবে ম্যাথমেটিক্যালি তৈরি করা সম্ভব—আমি সেই চ্যালেঞ্জ দিলাম।”
তার এই অকপট স্বীকারোক্তি ও ব্যক্তিগত উপলব্ধির গল্পটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ কেউ তার এই অভিজ্ঞতার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নানা প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনাও তুলে ধরছেন। বর্তমানে গাজী রাকায়েত নিয়মিত ধর্মচর্চা করছেন এবং তার এই জীবনযাত্রার পরিবর্তন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। এই আলোচনা জনমানসে ধর্মীয় বিশ্বাস ও যুক্তির মধ্যে চলমান বিতর্কের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।





