মহাসড়কে ৭ দিন ট্রাক বন্ধ: ঈদযাত্রায় কি স্বস্তি মিলবে?

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এর আওতায় আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৭ দিন মহাসড়কে সাধারণ ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ডিএমপি’র ধারণা, এবারের ঈদে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করবেন। এই বিশাল জনস্রোতের ঈদযাত্রা আনন্দময় ও নিরাপদ করতে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনাগুলো প্রদান করা হয়।
পণ্যবাহী যানবাহনের উপর নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, এই ৭ দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, পচনশীল পণ্য, ওষুধ, গার্মেন্টস সামগ্রী, জ্বালানি এবং সার বহনকারী যানবাহনগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। অর্থাৎ, কেবল সাধারণ পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকবে, যা যানজট নিরসনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, আগামী ১৬ মার্চ থেকে ঈদযাত্রা শেষ না হওয়া পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এড়িয়ে বিকল্প পথ ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক (কুড়িল থেকে আব্দুল্লাহপুর), ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (গুলিস্তান থেকে সাইনবোর্ড), গাবতলী অভিমুখী সড়ক এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের মতো ব্যস্ত রুটগুলোতে যানজট এড়াতে এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জন্যেও নির্দেশনা রয়েছে। টার্মিনালের বাইরে প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো বা নামানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা যাবে না এবং একই সিট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা যাবে না। বাসের সিডিউল যথাযথভাবে মেনে চলা এবং যাত্রীদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের জন্যও কঠোর নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। একজন চালক টানা ৫ ঘণ্টার বেশি এবং দিনে মোট ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে পারবেন না। নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন, শারীরিক অসুস্থতা বা ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে গাড়ি চালানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং নিষিদ্ধ এলাকায় ওভারটেকিং না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চালকদের অবশ্যই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির হালনাগাদ ফিটনেস সনদ থাকতে হবে।
যাত্রীদের নিরাপত্তায় অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা এবং নিজ মালামাল সাবধানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাসের ছাদে ভ্রমণ, চলন্ত অবস্থায় গাড়িতে ওঠানামা এবং পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীদের টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর *৯৯৯*-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরবাসীর পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেছে একটি নিরাপদ ও যানজটমুক্ত ঈদ নিশ্চিত করতে। এই কঠোর নির্দেশনাগুলো ঈদযাত্রা কতটা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে পারে, তা জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কোটি মানুষ।





