মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪-এর অভ্যুত্থান উভয়ই সম্মানের, বিভেদ ভুলে সমৃদ্ধ আগামীর প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষ

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—উভয়ই সমান গুরুত্ব বহন করে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের জন্মের লড়াই, আর ২০২৪-এর আন্দোলন ছিল স্বৈরাচার বিদায় করে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার লড়াই। এই দুই ঐতিহাসিক ঘটনারই আলাদা মূল্যবোধ রয়েছে এবং জাতি হিসেবে আমাদের উভয়কেই যথাযথ সম্মান দিতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে এই দুই চেতনাকে ধারণ করা জরুরি।
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি আরও উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশের ভিত্তি রচিত হয়েছে। যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর বিপ্লব পরস্পরবিরোধী নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক। দেশপ্রেমহীন জাতি কখনো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিএনপির দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং একটি মজবুত জাতীয় ভিত্তি গড়ে তোলাই এখন বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বিগত দিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে নতুন বাংলাদেশে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পরিচয় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দেখতে চান সাধারণ মানুষ। অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে যে, ইতিহাসের সব মহানায়ক ও বিপ্লবীদের যথাযথ সম্মান দিয়েই আগামীর বাংলাদেশ গঠিত হবে।





