হাদি হত্যা তদন্ত: ফয়সাল কি কেবল বলির পাঁঠা?

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ গ্রেপ্তার হলেও নিহতের পরিবার পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার নিয়ে সংশয়ে রয়েছে। ফয়সালকে ‘বলির পাঁঠা’ না বানিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকল মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন হাদির বোন মাসুমা হাদি। সোমবার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকার বাড়িতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান।
হাদি হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। ফয়সাল গ্রেপ্তার হওয়ায় পরিবার কিছুটা আশাবাদী হলেও, শুধু তাকে ফাঁসি দিয়ে ‘পর্দার আড়ালের মূল খুনিদের’ আড়াল করা হতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মাসুমা। তার মতে, ফয়সাল একজন শুটার মাত্র, তাই তাকে কে নির্দেশ দিয়েছে, কে অর্থ যুগিয়েছে এবং কারা তাকে জেল থেকে জামিনে বের হতে সহায়তা করেছে, সেসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের সময় বিজয়নগর এলাকায় তাকে চলন্ত রিকশায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা পরে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিলেও, তাতে সন্তুষ্ট ছিল না ইনকিলাব মঞ্চ। মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি দাখিল করায় আদালত সিআইডিকে মামলাটি নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই হাদিকে হত্যা করা হয়।
হাদির পরিবারের দাবি, দ্রুত ফয়সাল ও আলমগীরকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সিআইডির নতুন তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল শক্তি উন্মোচিত হবে— এই অপেক্ষায় রয়েছে নিহতের পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা।





