জাতীয়

রাষ্ট্রপতি বিতর্কে মোদিকেই পাল্টা আক্রমণ মমতার, সামনে আনলেন ছবি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। দার্জিলিং সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অভ্যর্থনা না জানানোর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনার জবাবে, একটি দুই বছর পুরনো ছবি জনসমক্ষে এনে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছেন মমতা।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দার্জিলিংয়ে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে আসেন। সেখানে ভাষণে রাষ্ট্রপতি আক্ষেপ করে বলেন যে, তাকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। তিনি মমতাকে তার ‘ছোট বোন’ হিসেবে সম্বোধন করে বলেন, বাংলার মেয়ে হিসেবে তিনি এসেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী কেন আসেননি তা তার জানা নেই। এছাড়াও, অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিবর্তন এবং পর্যাপ্ত সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্য প্রশাসন সম্ভবত আদিবাসীদের কল্যাণ চায় না।

রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) বিষয়টি ‘লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আদিবাসী সমাজ থেকে উঠে আসা রাষ্ট্রপতির এই কষ্ট ভারতের মানুষের মনে গভীর আঘাত দিয়েছে এবং তৃণমূল সরকার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সমালোচনার জবাবে রোববার (৮ মার্চ) এক জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই নেতা একটি আলোকচিত্র প্রদর্শন করেন। ২০২৪ সালের ৩১ মার্চের এই ছবিতে দেখা যায়, লালকৃষ্ণ আদভানিকে ভারতরত্ন প্রদানের সময় রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন, অথচ প্রধানমন্ত্রী মোদি তার পাশেই চেয়ারে বসে আছেন। এই ছবিকে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের প্রথম আদিবাসী নারী রাষ্ট্রপতির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর প্রকৃত সম্মান আসলে কতটুকু।

মমতা জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন করে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এটি আপনার জন্য। আপনি কি রাষ্ট্রপতিকে সম্মান করেন? তিনি একজন নারী এবং আদিবাসী নেত্রী। তাহলে রাষ্ট্রপতি কেন দাঁড়িয়ে আছেন আর আপনি কেন বসে আছেন?” তৃণমূল নেত্রীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী যখন রাষ্ট্রপতির পদের প্রতি শ্রদ্ধার বড় বড় বুলি আওড়ান, তখন এই ছবিই প্রমাণ করে কে আসলে সম্মান করে আর কে করে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী ভোটের সময় ‘ভোট পাখির’ মতো বাংলায় আসেন এবং যা খুশি তাই বলে যান। রাষ্ট্রপতির সফর নিয়ে রাজনীতির আশ্রয় নিয়ে বিজেপি দেশের সর্বোচ্চ পদটিকে অপব্যবহার করছে বলেও মন্তব্য করেন মমতা।

এই রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সাংবিধানিক পদমর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই বিতর্ক ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আলোচনা ও আন্তঃদলীয় সম্পর্কের ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button