১২৪ শিশু খুন, ৩০৮ যৌন নির্যাতন; ঘরেই কেন বিপদ?

২০২৫ সালে দেশে অন্তত ১২৪টি শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে এবং একই সময়ে শিশুদের ওপর ৩০৮টি যৌন নির্যাতনের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। শিশু অধিকারভিত্তিক সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে, যা জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর জুড়ে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১১টি শিশুহত্যার ঘটনা ঘটেছে, যা শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এক ভয়াবহ ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরে। নিহত শিশুদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ের সংখ্যা প্রায় সমান – ৫৯ জন ছেলে এবং ৬৩ জন মেয়ে। দুই শিশুর লিঙ্গ পরিচয় জানা যায়নি।
ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ শিশুহত্যা ঘটেছে গ্রামাঞ্চলে, যার প্রধান কারণ হিসেবে পারিবারিক কলহ ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে সংঘটিত বেশিরভাগ শিশুহত্যা প্রকাশ্য স্থান বা জনপরিসরে ঘটেছে। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৮ জন শিশু নিহত হয়েছে, যেখানে সিলেট ও বরিশাল বিভাগে এই সংখ্যা সর্বনিম্ন—প্রতিটিতে পাঁচজন করে।
বয়সভেদে, শূন্য থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে; এই বয়সসীমায় ৬৪ জন শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, যাদের অনেকেই পরিচিত ব্যক্তির হাতে নিহত হয়েছে। শিশুদের ওপর সংঘটিত যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রেও অভিযুক্তদের বেশিরভাগই শিশুর পরিচিত – যেমন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়, প্রতিবেশী বা শিক্ষক। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঘটেছে ঘর বা পারিবারিক পরিবেশে।
শিশুদের প্রতি এই সহিংসতা পরিবার ও সমাজে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ‘শিশুরাই সব’ সংগঠনের আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার বলেন, শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা, বিনোদন ও অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব স্তরে শিশু সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা জরুরি। তিনি আরও জোর দেন, শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং শিশু সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজন। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে এই সমস্যাগুলোর জরুরি ও কার্যকর সমাধান প্রত্যাশিত।





