বোতলজাত সয়াবিন তেল উধাও, গোপনে দাম বৃদ্ধি?

রাজধানীর বাজারগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মাসখানেক ধরেই এই পরিস্থিতি চলছিল, তবে গত তিন-চার দিনে তা আরও প্রকট হয়েছে। যদিও খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত তেলের সরকার নির্ধারিত মূল্য বাড়েনি, কিন্তু সরবরাহকারী বা ডিলার পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের উপর কৌশলে দামের বোঝা চাপছে। একইসঙ্গে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়েছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো থেকে বাজারে তেলের সরবরাহ কমেছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের আতঙ্ক থেকে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনায় বাজারে এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকানে ৫ লিটারের বোতলজাত তেল সামান্য পরিমাণে থাকলেও, ১ ও ২ লিটারের বোতল প্রায় অনুপস্থিত। পুষ্টি, রূপচাঁদা, বসুন্ধরা ও ফ্রেশ ব্র্যান্ড ছাড়া অন্য ব্র্যান্ডের তেল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
কারওয়ান বাজারের ডিলারদের কাছেও খুচরা বিক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে, তবে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না তারা। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের শেষবার দাম বাড়ানো হয়েছিল, যেখানে ১ লিটার ১৯৫ টাকা এবং ৫ লিটার ৯৫৫ টাকা নির্ধারিত হয়। এরপর এমআরপি না বাড়ালেও, ডিলার পর্যায়ে দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। এতে খুচরা বিক্রেতাদের মুনাফা কমেছে।
উদাহরণস্বরূপ, ৫ লিটারের বোতল আগে যেখানে ডিলারের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতারা ৯৩০ টাকায় কিনে ৯৪০ টাকায় বিক্রি করে ১০ টাকা লাভ করতেন, এখন তারা সেটি ৯৫০ টাকায় কিনে ৯৫৫ টাকায় বিক্রি করছেন। ফলে তাদের লাভ কমেছে ৫ টাকা। আর এই বাড়তি খরচ কার্যত ভোক্তার উপরই বর্তাচ্ছে, কারণ তাদের এখন আগের চেয়ে ৫-১০ টাকা বেশি দিয়ে তেল কিনতে হচ্ছে, অথবা নির্দিষ্ট মূল্যে তেল না পেয়ে অন্য বিকল্প খুঁজতে হচ্ছে।
এদিকে বোতলজাত তেলের সংকটের সুযোগে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়েছে। গত চার দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। কারওয়ান বাজারে গতকাল প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৯৮-২০০ টাকায়, যা চার দিন আগে ছিল ১৯৩-১৯৫ টাকা। একইভাবে খোলা পাম তেল বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকায়, যা আগে ছিল ১৬৫ টাকা।
বাজারের এই কৃত্রিম সংকট এবং ডিলার পর্যায়ে তেলের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সংকটের সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সাধারণ জনগণ।





