জাতীয়

গাইবান্ধার মাঠে নারী শ্রমিকের মজুরি অর্ধেক: কেন এই বৈষম্য?

উত্তরের কৃষিপ্রধান জেলা গাইবান্ধার গ্রামীণ জনপদে নারী কৃষি শ্রমিকেরা পুরুষের সমান কাজ করেও প্রায় অর্ধেক মজুরি পাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস সামনে রেখে যখন নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে, তখনো এই মজুরি বৈষম্য গ্রামীণ অর্থনীতির এক কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরছে।

ধান রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সবজি ক্ষেত পরিচর্যা, ফসল কাটা কিংবা ঝাড়াই-মাড়াই – কৃষিকাজের প্রতিটি ধাপেই গাইবান্ধার অসংখ্য নারী শ্রমিক তাদের শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিরলস পরিশ্রম করলেও দিনের শেষে তাদের মজুরি পুরুষের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ কম। এই বৈষম্য একদিকে যেমন নারী শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করছে, তেমনি তাদের জীবনযাত্রাকেও কঠিন করে তুলছে।

বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহসানুল হাবিব সাঈদ জনতা টাইমসকে জানান, কৃষিনীতিমালায় নারীর শ্রমকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। তিনি মনে করেন, নারীদের জন্য আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ বাড়ানো, সহজ শর্তে ঋণ, জমির মালিকানা এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা গেলে তারা দেশের কৃষিক্ষেত্রে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবেন।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী এই মজুরি বৈষম্যকে শুধু সামাজিক অবিচার নয়, গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, কৃষি শ্রমিকদের জন্য সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, যা এই বৈষম্য নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে।

নারী দিবসের আলোচনা যখন নারীর অধিকারের কথা বলে, তখন গাইবান্ধার এই নারী শ্রমিকদের প্রশ্ন, কবে দূর হবে তাদের কর্মক্ষেত্রের এই বৈষম্য? সরকারের নীতিগত পদক্ষেপ এবং নীতিমালায় নারীর শ্রমের সঠিক মূল্যায়নই পারে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে – এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button