জ্বালানি সংকটে সরকারের কড়া নির্দেশ: তেল কিনতে লাগবে পূর্বের রশিদ!

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলেছে। রাজধানী ঢাকায় জ্বালানি সংকটের আতঙ্ক, তেল স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন, তর্কবিতর্ক ও অতিরিক্ত তেল মজুতের প্রবণতা দেখা দেয়ায় পরিস্থিতি সামলাতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। শুক্রবার জ্বালানি বিভাগ থেকে নতুন কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের জারি করা নির্দেশনায়, ফিলিং স্টেশনগুলো কতটুকু তেল সরবরাহ করতে পারবে এবং ভোক্তারা কী পরিমাণ তেল সংগ্রহ করতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোর তেল উত্তোলনের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পূর্বের বিশৃঙ্খল অবস্থা কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় ভোক্তাকে আবশ্যিকভাবে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ নিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পরবর্তী সময়ে তেল কেনার সময় পূর্ববর্তী ক্রয় রশিদ বা বিল প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডিলারদেরও বরাদ্দ এবং নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রয় রশিদ গ্রহণ করে ভোক্তাদের কাছে তেল সরবরাহ করতে হবে। এছাড়াও, ফিলিং স্টেশনগুলোকে জ্বালানি তেলের মজুত ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রদান করে তেল উত্তোলন করতে হবে এবং তেল বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের তেল সরবরাহ করার আগে তাদের মজুত ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করবে, যেন কোনোভাবেই বরাদ্দের বেশি তেল দেওয়া না হয়।
সরকারের এই কড়া নির্দেশনার ফলে একদিকে যেমন জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরার আশা করা হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যে তেল সংগ্রহে নতুন এক প্রক্রিয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশের বাজারে জ্বালানি সরবরাহ কতটা স্থিতিশীল থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





