আবু সাঈদ হত্যা: প্রতীক্ষিত রায় ৯ এপ্রিল, ন্যায়বিচারের আশায় দেশ

জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আগামী ৯ এপ্রিল এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাইব্যুনাল থেকে এই তথ্য জানানো হয়, যা দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটাচ্ছে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা সাঈদের সেই হৃদয়বিদারক ভিডিওটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই ঘটনা ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দিতে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করে এবং পরবর্তীতে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৩০ জুন এসব আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৩০ জন আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার এই রায় একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের পথ সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে, তেমনি এটি জুলাই-আগস্টের সেই গণআন্দোলন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে এই রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে, যা ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।





