জাতীয়

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি: ১৮২ ফ্লাইট বাতিল, হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত চার দিনে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ১৮২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, যা তাদের কর্মস্থল ও গন্তব্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শনিবারের ইরান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর জেরে ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উড়োজাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১৪৭টি এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩৫টি ফ্লাইট রয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত শনিবার ২৩টি, রোববার ৪০টি এবং সোমবার ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। মঙ্গলবার নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে আরও ৩৮টি বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে কাতার এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, গালফ এয়ার, ফ্লাইদুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যারাবিয়া এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একাধিক ফ্লাইট রয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চার দিনে ৩৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার মধ্যে মঙ্গলবার সকালের সাতটি ফ্লাইটও অন্তর্ভুক্ত। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এবং এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে, মাস্কাট থেকে আসা সালাম এয়ার এবং মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কিছু ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে এবং ফ্লাইট চলাচল কখন পুনরায় পুরোদমে শুরু হবে, তা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, তবে বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখাই একমাত্র উপায়।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button