বইমেলায় জনশূন্য স্টল: বড় লোকসানের মুখে সব শেষ প্রকাশকদের…

রমজান মাসের প্রভাব ও সময় পরিবর্তনের হঠকারী সিদ্ধান্তে স্থবির হয়ে পড়েছে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬। মেলার অর্ধেক সময় পার হতেই বিক্রিতে চরম ধস নেমেছে। ক্রেতা ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিও এখন তলানিতে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এখন কেবলই হাহাকার। প্রকাশকরা জানিয়েছেন, এভাবে চলতে থাকলে বিনিয়োগের টাকা তোলাও অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেলের পর যেখানে মেলার মূল ভিড় থাকার কথা, সেখানে ইফতার ও তারাবির ইবাদতের কারণে মেলা প্রাঙ্গণ প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। সন্দীপন প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী রোকন উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চেতনার দোহাই দিয়ে মেলা পিছিয়ে ফেব্রুয়ারির শেষে আনা হলো, যা এখন আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেলা ডিসেম্বরে হলে এই পরিস্থিতি হতো না। এখন মনে হচ্ছে ডেকোরেশনের খরচ আর স্টলারদের সম্মানীও উঠবে না।”
বিক্রির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে জনতা প্রকাশের প্রকাশক রফিকুজ্জামান হুমায়ুন জানান, শুক্র-শনিবার কিছু বিক্রি হলেও সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে তা দুই হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, “মানুষ এখন ঈদের কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত। বই কেনার চেয়ে মানুষ এখন প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই বেশি আগ্রহী। আমাদের ওপর এই সময়টা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
একই দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন রুহামা প্রকাশনী ও কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের মতো স্টল মালিকরা। তাদের মতে, রমজানের শেষ দশ দিন মানুষ ইবাদত ও বাড়ি ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকবে, ফলে বিক্রির আর কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে এর মধ্যেও কিছুটা আশার আলো দেখছেন সূচীপত্রের প্রকাশক সাঈদ বারী। তিনি মনে করছেন, ছুটির দিনগুলোতে ভালো বিক্রি হলে অন্তত খরচটা উঠে আসতে পারে।
অন্যদিকে, এই মন্দার মাঝেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মেলায় দুটি নতুন বই এবং দুটি পুনঃমুদ্রিত বই নিয়ে এসেছে। তবে ক্রেতার অভাবে সেই বইগুলোও খুব একটা নজরে পড়ছে না। সব মিলিয়ে এবারের বইমেলা প্রকাশকদের জন্য এক বিশাল আর্থিক বিপর্যয়ের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মেলা শেষ হতে আরও কিছুদিন বাকি থাকলেও, মেলার বর্তমান গতিহীনতা প্রকাশকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করছে। বিনিয়োগ করা টাকা আদৌ ঘরে ফিরবে কি না, সেই শঙ্কায় কাটছে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত।





