খামেনির বিদায়ে বড় ধাক্কা ইরান, কী হতে যাচ্ছে উত্তপ্ত এই ভূখণ্ডে?*

ইরানের অবিসংবাদিত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণ দেশটির জন্য এক বিশাল শূন্যতা ও বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই নেতার প্রস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে খামেনি না থাকলেও ইরানের লৌহকঠিন শাসনব্যবস্থায় কি কোনো বড় পরিবর্তন আসবে? নাকি সংঘাতের আগুন আরও বাড়বে—এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খামেনি ইরানের অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং অপ্রতিরোধ্য শাসক হলেও দেশটির শাসনকাঠামো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এক ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে পুরো ব্যবস্থা স্থবির না হয়ে পড়ে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে শিয়া ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, তা খামেনির মৃত্যুর পরেও সমানভাবে কার্যকর থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ নামক ৮৮ সদস্যের একটি শক্তিশালী ধর্মীয় সংস্থা রয়েছে। তারা ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচন করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা এমন কাউকেই বেছে নেবেন যিনি খামেনির কট্টরপন্থী নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।
তবে পর্দার আড়ালে সবচেয়ে বড় প্রভাব বিস্তার করবে দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পোরেশন’ (আইআরজিসি)। এই আদর্শিক সামরিক বাহিনীটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে লিপ্ত। আইআরজিসি নিশ্চিত করবে যেন নতুন নেতা তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করেন এবং অভ্যন্তরীণ কোনো ভিন্নমত প্রশ্রয় না দেন।
খামেনির পরবর্তী সময়ে ইরানের শাসনব্যবস্থা হয়তো টিকে থাকবে, কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই ভয়—সংঘাত কি আরও বাড়বে? ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মাঝে খামেনির উত্তরসূরি কে হবেন এবং তিনি কতটা কঠোর হবেন, তা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।





