খেলছিল শিশুরা, মুহূর্তেই সব শেষ করে দিল যুক্তরাষ্ট্র: ইরানে ভয়াবহ হামলায় ঝরল শত প্রাণ…

ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যায়ামাগারে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ বিমান হামলায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দেশটির একাধিক অঞ্চল। এই বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ১০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে বড় একটি অংশই কোমলমতি শিশু।
ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, দেশটির লামের্দ শহরের একটি জিমনেসিয়ামে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে প্রাথমিকভাবে ১৫ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় সেখানে শিশুরা খেলাধুলা করছিল এবং অনেক সাধারণ মানুষ ব্যায়ামে ব্যস্ত ছিলেন। মুহূর্তের বিস্ফোরণে আনন্দঘন পরিবেশটি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়।
অন্যদিকে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, এই হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলী ফরহাদি জানিয়েছেন, শনিবার স্কুলটিতে তিনটি মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়। এতে পুরো ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এই হামলাকে চরম অমানবিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “দিনের আলোতে যখন স্কুলটি শিক্ষার্থী দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল, তখনই এই হামলা চালানো হয়। নিহতরা সবাই ছিল নির্দোষ শিশু।” তিনি আরও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরানের জনগণ এই হত্যাকাণ্ডের কঠিন জবাব না দিয়ে থাকবে না।
বর্তমানে পুরো ইরানে চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই হামলা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় বিশ্ববাসী।





