আন্তর্জাতিক

ধ্বংসের মুখে মধ্যপ্রাচ্য? দুই শীর্ষ নেতার মৃত্যুতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ হামলা…

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এখন তুঙ্গে। শনিবার ভোরে ইরানের ওপর ‘এপিক ফিউরি’ ও ‘লায়নস রোর’ নামে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর পাল্টা জবাবে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা অন্তত ৫টি মার্কিন ঘাঁটিতে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান।

দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরান ও ইসরায়েল সীমান্ত ছাপিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। পাশাপাশি ইসরায়েলের মোসাদ সদর দপ্তর ও প্রধান সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শীর্ষ দুই নেতার মৃত্যু দেশটির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হলেও তারা দমে যাওয়ার পাত্র নয়। বরং তাদের হাতে থাকা হাজার হাজার মাঝারি ও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি। বর্তমানে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদ তলানিতে থাকায় ইরানের এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ ইরান বন্ধ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেমনটি হলে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে আগুন লাগবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে। তেলের দাম বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বর্তমানে পুরো বিশ্বের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় কোনো হামলার ছক কষছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button