আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণা: ইরানকে ‘ধ্বংসের’ বার্তা, মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা…

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সরকার পতনে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানসহ ইরানের পাঁচটি প্রধান শহরে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই ভয়ংকর ঘোষণা দেন। তার এই বার্তার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী, যা এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে মোড় নিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানকে দমাতে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র এখন বড় ধরনের যুদ্ধে লিপ্ত হতে যাচ্ছে। তিনি তার বার্তায় সরাসরি যুদ্ধের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেছেন, ‘আমরা তাদের প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে যাচ্ছি এবং তাদের পুরো ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে যাচ্ছি। শুধু তাই নয়, আমরা নিশ্চিতভাবেই ইরানের নৌবাহিনীকেও চিরতরে ধ্বংস করে দেব।’

ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার অঙ্গীকার করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে যাচ্ছি যে এই অঞ্চলের সন্ত্রাসী প্রতিনিধিরা আর এই অঞ্চল বা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে পারবে না। আমরা যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করব যে ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। এটি একটি অত্যন্ত সহজ ও পরিষ্কার বার্তা—তাদের কাছে আর কখনও পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’

ইরান সরকারকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘এই সরকার খুব শিগগিরই বুঝতে পারবে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর অপরাজেয় শক্তি এবং সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করা কারও উচিত নয়।’

ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে থেকেই ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত ২২শে জুন আমেরিকার যুদ্ধবিমান ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল। বিশেষ করে পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত ফোর্দো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রটি ধ্বংস করাই ছিল মিত্রশক্তির মূল লক্ষ্য। এরও আগে, ১৩ই জুন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েল আকস্মিক হামলা চালিয়েছিল। ইসরায়েল তখন দাবি করেছিল, তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা।

ট্রাম্পের এই সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং লাখ লাখ সাধারণ মানুষ সম্ভাব্য যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল এখন তাকিয়ে আছে, এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button