আফগান-পাক সংঘাত: মধ্যস্থতায় চাপ বাড়ছে বিশ্বনেতাদের

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতি আফগান সরকার পাকিস্তানে ৫৫ জন সেনা নিহতের দাবি অস্বীকার করে টিটিপি ইস্যুকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে আখ্যা দিয়েছে। একইসাথে, পাকিস্তান হামলা চালিয়ে গেলে তার কঠোর জবাব দেওয়ার সামর্থ্য আছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কাবুল।
এই পরিস্থিতিতে সংঘাত নিরসন ও উত্তেজনা কমাতে আন্তর্জাতিক মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কাতার, সৌদি আরব, চীন, তুরস্ক, ইরান এবং রাশিয়ার মতো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। কাতার ও সৌদি আরব এর আগে দুদেশের মধ্যে সফল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে এবং বর্তমানেও পর্দার আড়ালে সক্রিয় রয়েছে। চীন ও তুরস্কের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব সংঘাত প্রশমনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ইরান ও রাশিয়াও তাদের সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছেন তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে সীমান্ত হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের পথে এগোতে উভয় দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। রয়টার্স নিশ্চিত করেছে, তুরস্কের শীর্ষ কূটনীতিবিদ হাকান ফিদান পৃথক ফোনকলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, কাতার ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এছাড়াও, চীন নিজেদের উপায়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এই সংঘাতের জেরে পাক-আফগান সীমান্তে বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। পাক-আফগান জয়েন্ট চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য মতে, সীমান্ত বন্ধের আগে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে বছরে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হতো, যা এখন পুরোপুরি থমকে গেছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পর দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত তীব্র হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিশেষ করে পূর্ব-দক্ষিণ এশীয় অর্থনীতিতে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল অস্ত্রের বদলে আলোচনার টেবিলে এই সংঘাত সমাধানের দিকে মনোযোগী হতে দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। এই উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং এর মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি কতটা সুরক্ষিত থাকে, তা নিয়েই এখন অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক বিশ্ব।




