সীমান্তে ‘খোলা যুদ্ধ’ ঘোষণা: পাক-আফগান সামরিক শক্তি কার কেমন?

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে। কয়েক মাসের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের পর এবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে ‘খোলা যুদ্ধ’ শুরু হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে আফগান সেনাদের হামলার পর পাকিস্তান পাল্টা বিমান হামলা চালায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সামরিক শক্তির একটি তুলনামূলক চিত্র উঠে এসেছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীতে সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ৬ লাখ ৬০ হাজার হলেও আফগানিস্তানের সেনা সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজার।
স্থলপথে সামরিক সরঞ্জামাদির দিক থেকেও পাকিস্তান এগিয়ে। তাদের কাছে প্রায় ৬ হাজার সাঁজোয়া যান এবং ৪ হাজার ৬০০ কামান রয়েছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের কাছে কিছুসংখ্যক সাঁজোয়া যান থাকলেও সেগুলোর বেশিরভাগই পুরোনো সোভিয়েত আমলের এবং এর সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়।
আকাশপথেও পাকিস্তান সুস্পষ্টভাবে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে। দেশটির ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান এবং ২৬০টি হেলিকপ্টার রয়েছে। এর বিপরীতে আফগানিস্তানের কোনো আধুনিক যুদ্ধবিমান নেই। যদিও তাদের কাছে কিছু পুরোনো বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে, তবে সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তাদের কাছে প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড বা অস্ত্র রয়েছে, যা আফগানিস্তানের নেই। আফগানিস্তানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রাগার নেই।
দুই দেশের মধ্যে ‘খোলা যুদ্ধ’ ঘোষণার পর সামরিক শক্তির এই অসম চিত্র সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পারমাণবিক শক্তিধর একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশের এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ কী হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে।





