জাতিসংঘে হঠাৎ যা ঘটল… হরমুজ প্রণালিতে শক্তি প্রয়োগের প্রস্তাবে ভোটের দিন কেন বাতিল?

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক’ শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভোট স্থগিত করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। ১৫ সদস্যের এই পরিষদের শুক্রবার সকালে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতেই সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে এএফপি জানায়, ‘গুড ফ্রাইডে’ উপলক্ষে জাতিসংঘে সরকারি ছুটি থাকায় ভোট স্থগিত করা হয়েছে—যদিও ভোট ঘোষণার সময়ই বিষয়টি জানা ছিল। খসড়া প্রস্তাবে ভোটের নতুন কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
জাতিসংঘে বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত জামাল আলরোওয়াই বলেন, ‘আমাদের অঞ্চল ও বিশ্বের ওপর প্রভাব ফেলছে, এ ধরনের অর্থনৈতিক সন্ত্রাস আমরা মেনে নিতে পারি না।’ যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়া এই প্রস্তাবটি ‘গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে’ এসেছে। খসড়া অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এককভাবে বা ‘স্বেচ্ছাসেবী বহুজাতিক নৌ-জোট’ গঠন করে পরিস্থিতি অনুযায়ী ‘প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশের জলসীমায় প্রযোজ্য হবে, যাতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিরাপদ রাখা যায়।
তবে রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশের সংশয় দূর করতে খসড়াটি একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাবে যেকোনো পদক্ষেপের প্রতিরক্ষামূলক চরিত্রের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফোঁ বলেন, এখন ‘প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ দ্রুত নির্ধারণ করা পরিষদের দায়িত্ব’। অন্যদিকে, জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং বলেন, ‘শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া মানে অবৈধ ও নির্বিচার শক্তি প্রয়োগকে বৈধতা দেওয়া, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।’ ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়াও একতরফা পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে।
সাধারণ সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এর প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল, এলএনজি ও সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম বেড়ে যাচ্ছে।





