ট্রাম্পের গোপন ‘বলরুম’ বিতর্কের ঝড়! যা লুকিয়ে রেখেছিল হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়কালে হোয়াইট হাউসে একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল, যা সম্প্রতি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শুরুতে বিষয়টি গোপন রাখা হলেও, আইনি জটিলতার মুখে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কিছু তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছে। প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে এই বলরুম নির্মাণের জন্য প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রকল্পের দৃশ্যমান অংশের চেয়ে ভূগর্ভস্থ অংশ বেশি জটিল ও ব্যয়বহুল হবে। বলরুম তৈরির লক্ষ্যে পুরনো প্রেসিডেনশিয়াল ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার (পিইওসি) ভেঙে নতুন, বড় ও আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত পিইওসি জরুরি পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হতো। এমনকি সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বিভিন্ন আন্দোলন ও সংকটের সময় এটি ব্যবহৃত হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, এই বলরুমটি মূলত নিচের সামরিক স্থাপনাকে সুরক্ষা দেবে। এতে বোমা রাখার ব্যবস্থা, উন্নত চিকিৎসাসুবিধা, এমনকি একটি হাসপাতাল, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা ও জীবাণু অস্ত্র মোকাবিলার সুবিধাও থাকবে। তবে, মার্কিন বিচারক জাজ রিচার্ড লিওন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যেতে বাধা দিয়েছেন। ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশনের একটি আবেদন আমলে নিয়ে তিনি এই আদেশ দেন। যদিও, হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণকাজ এর আওতার বাইরে।
অন্যদিকে, ইউনাইটেড স্টেটস সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। প্রকল্পের কিছু অংশ ‘টপ সিক্রেট’ হওয়ায় এর প্রকৃত পরিধি, ব্যয় ও সামরিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।





