আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ কি ভাঙছে ন্যাটোর ঐক্য? যা বলছে বড় শক্তিগুলো!

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মধ্যে গভীর বিভেদ তৈরি করছে। এই মতবিরোধ জোটের বাহ্যিক যেকোনো হুমকির চেয়েও গুরুতর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের ইরান যুদ্ধে যোগ দিতে আহ্বান জানালেও তারা এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর ফলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইউরোপ পাশে না দাঁড়ালে যুক্তরাষ্ট্রও ভবিষ্যতে তাদের পাশে থাকবে না।

ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অগ্রাধিকার ভিন্ন হওয়ার কারণে জোটের ঐক্য ও কার্যকারিতা হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, কোথায় ন্যাটোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কোন বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে মতবিরোধ বাড়ছে। এটি ন্যাটোর জন্য একটি বিপজ্জনক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

ইরান যুদ্ধ ইউক্রেন যুদ্ধের মতো নয়, যা সরাসরি ইউরোপের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে। বরং মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ন্যাটোর কৌশলগত অবস্থানের প্রান্তে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে দেখলেও অনেক ইউরোপীয় মিত্র দেশের কাছে এটি অগ্রাধিকার নয়। তাদের মূল মনোযোগ ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপের দিকেই রয়েছে।

সংঘাতের এই ভিন্নতা ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালী রক্ষায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশ নিতে অস্বীকৃতি ন্যাটোর মূল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ঐতিহ্যগতভাবে, ন্যাটোর লক্ষ্য ছিল ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন এটিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বৈশ্বিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, যা ইউরোপীয় দেশগুলো এখনো মানতে নারাজ।

এই বিভেদ ন্যাটোর মধ্যে একটি কৌশলগত দ্বৈতবাদ তৈরি করেছে। একটি পক্ষ বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা ও নমনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এই মতপার্থক্য জোটকে একটি সুসংহত ব্যবস্থা থেকে পরস্পরবিরোধী অগ্রাধিকারের সমষ্টিতে পরিণত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বড় যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হলে তা ইউরোপের ওপর ন্যাটোর মনোযোগ দুর্বল করে দেবে, যা রাশিয়ার জন্য সুবিধাজনক হবে। অন্যদিকে, মার্কিন সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরে যাওয়ায় এশিয়ার প্রতি আমেরিকার মনোযোগ কমবে, যা চীনের জন্য লাভজনক হতে পারে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ন্যাটোর সামরিক অবস্থানকেই নয়, বরং এর পরিচয়কেও পরীক্ষা করছে। ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো কীসের জন্য লড়াই করতে ইচ্ছুক, তা যদি সংস্থাটি নির্ধারণ ও সমন্বয় করতে না পারে, তবে আসল ফাটল ভেতর থেকেই আসবে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button