ভূমধ্যসাগর ছাড়ল মার্কিন রণতরি: ইরান-মার্কিন সম্পর্কে নতুন ইঙ্গিত?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ভূমধ্যসাগরের ক্রিট নৌঘাঁটি ছেড়ে গেছে। ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য মোতায়েন করা এই রণতরির প্রস্থান জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরোক্ষ আলোচনার নতুন দফা শুরুর পরপরই ঘটলো, যা কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার একটি নতুন দফা শুরু হয়। এরপরই রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্রিটের ইউএস নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি সউদা বে ঘাঁটি ত্যাগ করে। জাহাজটি গত সোমবার থেকে ওই ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল। রণতরির উপস্থিতি বা প্রস্থান নিয়ে এথেন্সে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
পশ্চিমা দেশগুলো আশঙ্কা করে যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে পরিচালিত। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার তেহরানকে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত না হলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ একটি বিমানবাহী রণতরি, নয়টি ডেস্ট্রয়ার এবং আরও তিনটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভূমধ্যসাগর থেকে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের প্রস্থানকে অনেকেই ইরান-মার্কিন সম্পর্কে বিদ্যমান চাপ কমানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
ভূমধ্যসাগর থেকে মার্কিন রণতরির এই সরে যাওয়া দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে, যদিও জেনেভার আলোচনার ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ওপরই এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে।





