আন্তর্জাতিক

সৌদি-মার্কিন সম্পর্কে বড় ফাটল! ট্রাম্পের কথায় ক্ষুব্ধ রিয়াদ, ভরসা হারাচ্ছে যুবরাজ সালমান

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের খামখেয়ালি আচরণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্রমশই হতাশ হয়ে পড়ছে সৌদি আরব। সম্প্রতি ট্রাম্পের কিছু মন্তব্য এবং নীতির কারণে রিয়াদে ক্ষোভ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব এখন হোয়াইট হাউজের ওপর ‘চরম হতাশ’ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক জোরদার করতে সৌদি আরব প্রচুর বিনিয়োগ করলেও ট্রাম্পের কিছু পরামর্শ তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর ওপর বর্তাবে এবং তিনি হয়তো কোনো চুক্তি ছাড়াই যুদ্ধ শেষ করে দিতে পারেন। ট্রাম্পের একতরফা পদক্ষেপ এবং পরিণতির কথা চিন্তা না করায় সৌদি আরব ব্যাপক হতাশ।

সবচেয়ে বেশি মর্মাহত হওয়ার কারণ ছিল সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) সম্পর্কে ট্রাম্পের কিছু মন্তব্য। মিয়ামিতে এক বিনিয়োগ সম্মেলনে ট্রাম্প যুবরাজ সালমানকে ‘মহান বন্ধু’ বললেও পরে মন্তব্য করেন, ‘তিনি (যুবরাজ সালমান) হয়তো ভাবেননি যে তাকে আমার পশ্চাদ্দেশে চুমু খেতে হবে।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি ভেবেছিলেন আমি হয়তো অন্য কোনো পরাজিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট হবো… কিন্তু এখন তাকে আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে।’ সৌদিদের কাছে এটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের অমার্জিত আচরণের সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প ও যুবরাজ সালমানের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও রিয়াদ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইরান প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বার্নার্ড হেকেল জানান, যুদ্ধের অগ্রগতি এবং ইরানের সক্ষমতা যা দেখা গেছে, তাতে সৌদিরা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়েছে। তারা নিজেদের অরক্ষিত অবস্থায় আছে বলে মনে করছে।

ইরানের নিখুঁত হামলা সক্ষমতা এই হুমকি আরও স্পষ্ট করেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার পাশাপাশি ইরান সৌদি আরবের শোধনাগার, বাহরাইন ও কুয়েতের পানি শোধন কেন্দ্র, কাতারের প্রধান গ্যাস কমপ্লেক্স এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানিতে আঘাত হেনেছে।

এমন পরিস্থিতিতে, সৌদি আরব প্রচেষ্টা চালাচ্ছে যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে পৌঁছাতে রাজি হয়। সৌদি আরব এখন ‘সংঘাতের বিস্তার রোধ এবং দ্রুত সমাপ্তিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button