ট্রাম্পের ভাষণে যা জানানো হলো না, গোপনে চলছে কী?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব কথা বলেছেন, তা মূলত তার পূর্বের বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এই ভাষণ নিয়ে আগাম জল্পনা থাকলেও, এতে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ বা যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে আসার পথ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
২০ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প জানান, এক মাসের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের “মূল কৌশলগত লক্ষ্যগুলো” সম্পন্ন হওয়ার পথে এবং এটি আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ গড়াতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে তার আগের মতোই হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি, এমনকি দেশটিকে “পাথর যুগে ফেরত পাঠানোর” অঙ্গীকারও করেন। তবে, এই যুদ্ধে ভোটারদের সমর্থন না থাকা এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন রেটিং কমে যাওয়ায়, তিনি আমেরিকানদের এই সংঘাতকে ভবিষ্যতের “বিনিয়োগ” হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
কিন্তু ভাষণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর অজানাই রয়ে গেছে। যেমন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ট্রাম্পের ঘোষিত সময়সীমার সাথে একমত কিনা, তা স্পষ্ট নয়। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস কর্তৃক উপস্থাপিত ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবের কী হলো, সে সম্পর্কেও নীরবতা পালন করেন ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহন পথ এবং ইরান যা কার্যত বন্ধ রেখেছে, সে বিষয়েও ট্রাম্পের অবস্থান সু্পষ্ট নয়। তিনি একদিকে ইরানকে ট্যাংকার চলাচলে অনুমতি দিতে চাপ দিচ্ছেন, অন্যদিকে মিত্রদের নিজেদের ব্যবস্থায় বিষয়টি সমাধানের কথা বলছেন। মিত্রদের প্রতি তার কটাক্ষ এবং ন্যাটো জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা থাকলেও, ভাষণে সে সবের উল্লেখ ছিল না। হাজার হাজার মেরিন ও প্যারাট্রুপারের স্থলে উপস্থিতি এবং তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধ থেকে কোন পথে বেরিয়ে আসতে চান, তা এখনো অস্পষ্ট। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক চাপ – এই পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় সবকিছু বদলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।





