পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না ইরান: মার্কিন আলোচনার আগে স্পষ্ট বার্তা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, তার দেশ কোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এড়াতে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরোক্ষ আলোচনা শুরুর আগে আব্বাস আরাঘচি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির সুবিধা পাওয়ার অধিকার ইরানের জনগণের রয়েছে। তার মতে, তেহরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিলে একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ তৈরি করতে পারে।
ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় তৃতীয় দফার এই পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে বলে ওমান আশাবাদী। ইরানের পক্ষে আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এদিকে, ওয়াশিংটনে দেওয়া তার ‘স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তেহরানের প্রতি কঠোর মনোভাব দেখান। ট্রাম্প বলেন, যদিও তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান পছন্দ করেন, তবে ‘বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাস-পৃষ্ঠপোষক দেশকে’ পারমাণবিক অস্ত্র ধারণ করতে দেবেন না।
ইরানের এই স্পষ্ট ঘোষণা এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের কঠোর অবস্থান বৈশ্বিক শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই আলোচনা ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা দেবে এবং পারমাণবিক উত্তেজনা নিরসনে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও কৌতূহল দুটোই বিদ্যমান





