আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক চুক্তিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শেষ আলোচনা, ফল না এলে যুদ্ধ

মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সেনা সমাবেশের মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসছেন মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা। পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানে হামলা করা হবে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুমকির পরই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আলোচনাকে সংঘাত রোধের শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও চুক্তির সম্ভাবনা এখনও অস্পষ্ট।

২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সব থেকে বড় সেনা সমাবেশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানও এই আক্রমণের জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এমন একটি টানটান পরিস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের কথা বললেও, ইরানের নেতাদের চুক্তি মানতে চাপ দিতে দেশটির ওপর সীমিত পরিসরে হামলার কথাও বিবেচনা করছেন। তবে, তিনি আলোচনায় ঠিক কী দাবি করছেন বা সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা কী, তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি।

মার্কিন অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, যা দেশটির সঙ্গে পশ্চিমাদের দীর্ঘদিনের বিরোধের মূল কারণ। ইরান অবশ্য বরাবরই জোর দিয়ে বলেছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি স্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা একমাত্র অ-পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

গত মাসে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো ইরানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, যখন ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নির্মমভাবে দমন করা হচ্ছিল। এরপর থেকে তার মনোযোগ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির দিকে চলে যায়। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ করছে যা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম। তিনি বিশ্ব সন্ত্রাসের এক নম্বর পৃষ্ঠপোষককে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার অনুমতি দিতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন। গত বছর জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন স্থাপনাগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। ইরানও সেসময় জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

এই মাসের শুরুতে ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া আগের দুই দফা আলোচনার মতো, এবারও ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, আমেরিকা এই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে, যার মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং জ্বালানি বহনকারী বিমান রয়েছে। ট্রাম্প যাকে “আর্মাডা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ট্রাম্পের ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জানিয়েছিলেন যে ইরান কোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। আরাঘচি আরও বলেছিলেন, পারস্পরিক উদ্বেগ মোকাবিলা এবং স্বার্থ অর্জনের জন্য একটি অভূতপূর্ব চুক্তিতে পৌঁছানোর ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে। এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ নাকি শান্তির পথ দেখাবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button