যুদ্ধবিরতি চুক্তিতেও গাজায় হামলা: ৪ মাসে ইসরায়েলের ১৬২০ বারের বেশি লঙ্ঘন

গাজা উপত্যকায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও গত চার মাসে ইসরায়েল অন্তত ১,৬২০ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অক্টোবর ১০, ২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ পর্যন্ত চলা এসব হামলায় অন্তত ৬১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৬৬৩ জন আহত হয়েছেন।
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই চার মাসে ইসরায়েল ৫৬০ বার বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে, ৭৯ বার আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করে তল্লাশি চালিয়েছে, ৭৪৯ বার বোমা ও গোলাবর্ষণ করেছে এবং ২৩২ বার ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি ধ্বংস করেছে। এছাড়াও, তারা ৫০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর কথা থাকলেও ইসরায়েল তা নিয়মিতভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং উপত্যকার অসংখ্য বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির গত ১৩৯ দিনের মধ্যে ১২১ দিনই গাজায় ইসরায়েলি হামলা হয়েছে। মাত্র ১৮ দিন কোনো হামলা, মৃত্যু বা আহতের ঘটনা ঘটেনি।
সেপ্টেম্বর ২৯ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ, বন্দি বিনিময়, মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের একটি ২০-দফা প্রস্তাব পেশ করে। এর ভিত্তিতে মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় অক্টোবর ১৩ তারিখে ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে এই চুক্তিতে ইসরায়েল বা হামাস কেউই উপস্থিত ছিল না, যা শুরু থেকেই এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদিও ইসরায়েলের এই হামলাগুলোকে “প্রতিশোধমূলক” বলে আখ্যা দিয়ে চুক্তি লঙ্ঘনের পরও “যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে” বলে দাবি করছে, তবে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল অক্টোবর ১৯ ও ২৯ তারিখেই ইসরায়েলের হামলায় যথাক্রমে ৪৫ ও ১০৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫২ জন শিশুও রয়েছে। ইসরায়েল ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্র গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলাকালীন সময়েও তাদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ ও কূটনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।
এই পরিস্থিতিতে গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলো কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহলের নীরবতা এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।





