লিবিয়া থেকে দেশে ফিরছেন ১৭৫ বাংলাদেশি: দুঃসহ কষ্টের অবসান?

আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার দুটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরছেন। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ প্রচেষ্টায় এই প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়েছে। বুধবার ভোর পাঁচটায় বুরাক এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে নিশ্চিত করেছে।
ফেরানো এ ১৭৫ জনের মধ্যে ১১৩ জন ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে এবং ৬২ জন বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে আসা বাংলাদেশিদের বিদায় জানান। রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসনে সহায়তার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএম-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
প্রত্যাবাসনের সময় রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা লিবিয়ায় তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় আসার পর বিভিন্ন চক্রের হাতে জিম্মি হওয়া, মুক্তিপণের জন্য শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া, খাদ্য ও পানির অভাব, চিকিৎসার অভাব এবং বিদেশে আসার জন্য নিজ দেশের জমি-জমা বিক্রির কথা উল্লেখ করেন। অনেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা খরচ করার কথাও জানান।
রাষ্ট্রদূত তাদের দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক নৌ-দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তত জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারা তাদের জন্য সৌভাগ্য। তিনি ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ পথে কেউ যেন না আসে, সেজন্য প্রত্যাবাসিতদের নিজ নিজ এলাকায় তাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা ও মানবেতর জীবনযাপনের করুণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরার অনুরোধ জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনিয়মিত অভিবাসন ব্যক্তি ও পরিবারের ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।





