বিশ্বকাপের আগেই স্টেডিয়ামে গ্যালারি উপচে পড়া ভিড়, কিন্তু বাইরে কী ঘটল?

মেক্সিকোতে ঐতিহাসিক অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামের পুনঃউদ্বোধন ঘিরে চরম উত্তেজনা। ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে নির্বাচিত এই মাঠে বিপুল সংখ্যক দর্শকের সমাগম হয়েছিল। নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যে মাঠে প্রবেশ করতে দর্শকদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে স্টেডিয়ামের ভেতরে যখন উৎসবের আমেজ, ঠিক তখনই শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে। সড়কগুলো বিক্ষোভ মিছিল আর মানববন্ধনে মুখর হয়ে ওঠে। স্টেডিয়ামে ঢোকার আগে এক দর্শকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তবে সব ছাপিয়ে নজর কেড়েছে উৎসবের আবহ। বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়তেই এই মাঠের নতুন পথচলা শুরু হলো।
বাইরে যখন প্রতিবাদের ঝড়, স্টেডিয়ামের কাছে একটি প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। আবাসন, পানি, পরিবহন ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো উপেক্ষা করে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ব্যয়বহুল প্রকল্প গ্রহণের তীব্র নিন্দা জানান তারা। কোটি কোটি ডলার শুধু বিশ্বকাপ আয়োজনেই খরচ হচ্ছে, দেশের সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
ফুটবল বিশ্বের এক কিংবদন্তি স্টেডিয়াম, বানোর্তে স্টেডিয়াম নামে পরিচিত অ্যাজতেকা। প্রায় দুই বছর সংস্কারের পর এটি আবার চালু হলো। এই মাঠ সাক্ষী থেকেছে অনেক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল এখানে জুলে রিমে ট্রফি জিতেছিল। দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের রেকর্ডও এই মাঠের। পেলে ও ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিরাও খেলেছেন এখানে। ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটিও এই মাঠেই।
তবে ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো মাঠের খেলায় তেমন কোনো উত্তেজনার আশা করেছিলেন। পর্তুগাল এবং মেক্সিকোর মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে গোলশূন্য ড্র হয়েছে। দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও, কেউই জালে বল জড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত, স্টেডিয়ামের ভেতরের ফুটবলীয় রোমাঞ্চ নয়, বরং বাইরের প্রতিবাদ এবং মাঠের লড়াইয়ের অভাবই বেশি আলোচিত হয়ে রইল।





