মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা, আরব দেশগুলো কি তবে নিজেই ফাঁদে?

উপসাগরীয় আরব দেশগুলো তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দিয়ে এক নতুন বিপদের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া এসব দেশ তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর মার্কিন ও পশ্চিমা সামরিক অভিযানের সুযোগ করে দিয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান কখনোই উপসাগরীয় দেশগুলোতে আক্রমণ করেনি, অথচ এই দেশগুলোই এখন মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনকে সমর্থন করছে।
ঘটনাটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং ইসরাইলের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সমর্থনের প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা এবং ইরানের প্রভাব মোকাবেলা করা। এজন্য তারা ইসরাইলকে সামরিক ও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করছে। অন্যদিকে, আরব দেশগুলো, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো, ইরানের সঙ্গে বৈরিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াসকে সমর্থন করে আসছে। তাদের ধারণা, এই মিত্রতা তাদের নিরাপত্তা দেবে।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন আরব দেশগুলোকে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকিতে ফেলছে। অথচ এই ঘাঁটিগুলো না থাকলে তারা হয়তো এই পরিণতির শিকার হতো না। অন্যদিকে, আরব দেশগুলোর নীরবতা এবং ইসরাইলের প্রতি তাদের আপাত সমর্থন ফিলিস্তিনিদের মতো আরব জাতিকেও আরও বিপন্ন করছে।
প্রকৃতপক্ষে, রাশিয়া সহ অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, আরব দেশগুলো neutrality বা নিরপেক্ষতার ভান করছে। তাদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে বন্ধুত্বই তাদের নিরাপত্তার জন্য আসল হুমকি। এই বন্ধুত্ব তাদের এমন এক পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে যেখানে তারা একদিকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে একটি বড় সংঘাতের সম্ভাব্য শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে তারা কবে বের হতে পারবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান বিশ্লেষকরা।





