চিন নির্ভরতা কমাতে ভারতের বড় উদ্যোগ: ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে আশায় দেশ

চিনের উপর গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নির্ভরতা কমাতে ভারত একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি ব্রাজিল ও ভারত ক্রিটিক্যাল মিনারেলস এবং রেয়ার আর্থস খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য একটি যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হল সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল করা এবং ভারতের শিল্প খাতের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজের যোগান নিশ্চিত করা।
গত শনিবার নতুন দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা-এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তিকে ‘স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভারত ও ব্রাজিল একসঙ্গে কাজ করলে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী হবে।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ক্রিটিক্যাল মিনারেলস এবং রেয়ার আর্থস খনিজ আহরণ ও প্রক্রিয়াকরণে চিনের একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে। ইলেক্ট্রনিক্স, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে এই খনিজগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যেমন – বৈদ্যুতিক যান, সোলার প্যানেল, স্মার্টফোন, জেট ইঞ্জিন এবং গাইডেড মিসাইল। ভারতের দ্রুত অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং শিল্প খাতের বৃদ্ধির কারণে লৌহ আকরিকের মতো খনিজগুলির চাহিদাও বাড়ছে, যার দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ও রপ্তানিকারক হল ব্রাজিল।
ব্রাজিল চিনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিটিক্যাল মিনারেলসের ভাণ্ডার ধারণ করে। প্রেসিডেন্ট লুলা চুক্তি স্বাক্ষরকালে বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ক্রিটিক্যাল মিনারেলসে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিই এই চুক্তির মূল ভিত্তি।
নিউ দিল্লী-ভিত্তিক কাউন্সিল অন এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার থিঙ্ক ট্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞ ঋষভ জৈন এএফপি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, ক্রিটিক্যাল মিনারেলসে ব্রাজিলের সাথে ভারতের এই বর্ধিত সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সাম্প্রতিক সরবরাহ শৃঙ্খল সংক্রান্ত চুক্তির ধারাবাহিকতা মাত্র। তার মতে, ‘বৈচিত্র্যপূর্ণ সম্পদ আহরণ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের উদীয়মান নিয়ম shaping-এর জন্য গ্লোবাল সাউথ জোটগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এই খনিজ চুক্তি ছাড়াও ডিজিটাল সহযোগিতা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য খাত পর্যন্ত আরও নয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ব্রাজিলকে ভারতের ‘ল্যাটিন আমেরিকার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী পাঁচ বছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
এই চুক্তি শুধু খনিজ সরবরাহে স্থিতিশীলতাই আনবে না, বরং ভারত ও ব্রাজিলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আগামী পাঁচ বছরে ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পথও সুগম করবে। এর মাধ্যমে ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং চিনের উপর নির্ভরতা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর কণ্ঠস্বরকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।





