ইরান যুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তানের চাল, মোদি শিবিরে তোলপাড়!

প্রায় এক মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনা তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ইসলামাবাদ, একই সঙ্গে শান্তি আলোচনারও প্রস্তাব দিয়েছে। এই ঘটনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে, সেখানে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার টানাপোড়েন চলছে। এই বিষয়টি নয়াদিল্লি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক উদ্যোগের খবরে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতিকে ‘কৌতুক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের বিদেশনীতি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মোদির ব্যক্তিগত বিদেশনীতি। এর ফলাফল দেখতেই পাচ্ছেন। এটি বিশ্বজনীন কৌতুক হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন এবং পাকিস্তানকে মধ্যস্থতার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে তুলে ধরেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে, তবে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ভারত যেখানে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার ওপর জোর দিচ্ছে, সেখানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার পেছনে কিছু কারণ রয়েছে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা এবং সৌদি আরব ও চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তাকে এই ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে সহায়তা করেছে।
ভারতের সাবেক কূটনীতিকদের মতে, গত দেড় বছরে আমেরিকা-পাকিস্তান সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের উন্নতি দেখা গেছে। যদি পাকিস্তান ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে সফল হয়, তবে তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। এই সংঘাতের অবসান ঘটানো ভারতসহ সবার জন্যই লাভজনক। তবে, পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে সফল হলো তা অনেক বিশেষজ্ঞের কাছে অবাক করার মতোই।





