আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে প্রবাসীদের যা ঘটল! ইতিহাস তৈরি হলো…

ফ্রান্সে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রবাসী মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায় ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে এই উৎসব পালন করেন।

পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম সাধনা শেষে প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড মস্ক দ্য প্যারিসে ঈদের দুটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা ও সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতগুলোতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। মসজিদের ভেতরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকে খোলা স্থানে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা প্রবাস জীবনে এক আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করে।

তবে এবারের ঈদে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে লিওঁ শহরে। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায় প্রথমবারের মতো একটি সুসংগঠিত ও বৃহৎ ঈদের জামাতের আয়োজন করে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শহরের বিভিন্ন বয়স ও পেশার প্রায় ২৬০ জন বাংলাদেশি মুসলমান এই ঐতিহাসিক জামাতে অংশ নেন, যা তাদের ঐক্য ও সক্ষমতার পরিচয় বহন করে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে লিওঁতে বসবাসরত সব বাংলাদেশি মুসলিম একত্রিত হয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ পেয়েছেন। কমিউনিটির নেতারা বলছেন, তরুণদের উদ্যোগে এই আয়োজন ভবিষ্যতে লিওঁতে একটি বাংলাদেশি মসজিদ প্রতিষ্ঠার পথ উন্মোচন করতে পারে, তবে ফ্রান্সের আইন-কানুন মেনে চলা অত্যাবশ্যক।

ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি ছাড়াও পাকিস্তানি, মরোক্কান ও আলজেরীয়সহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা নিজ নিজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আলোকে ঈদ উদযাপন করেন। ঘরে ঘরে সেমাই, পোলাও, বিরিয়ানির মতো দেশীয় খাবার তৈরি হয়, যা ঈদ উৎসবকে এক বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত করে।

লিওঁতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই নতুন উদ্যোগ তাদের কমিউনিটির জন্য এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা কেবল ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি নয়, বরং তাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতির ভিত গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button