আন্তর্জাতিক

মিশরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: ১৮ মৎস্যজীবীর প্রাণহানি, পরিবারগুলোতে শোকের ছায়া

মিশরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পোর্ট সাইদ প্রদেশে একটি ট্রাক ও যাত্রীবাহী পিকআপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই মৎস্যজীবী। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২:৩০টার দিকে (জিএমটি ১০:৩০) পোর্ট সাইদের দক্ষিণে ৩০ জুন অ্যাক্সিস হাইওয়েতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মিশরের রাষ্ট্র-পরিচালিত আল-আহরাম সংবাদপত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন মৎস্যজীবী, যারা মাছের খামারে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা। অনেক পরিবারই এখন তাদের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে দিশেহারা।

আল-আহরামের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার শিকার আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পাবলিক প্রসিকিউটররা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছেন। দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলের অনলাইন ছবিগুলোতে দেখা গেছে, দুটি বড় কার্গো ট্রাকের মাঝে পিকআপটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং সড়কের ওপর ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এপি আরও জানায়, পিকআপটি মৎস্যজীবীদের উপকূলীয় পোর্ট সাইদ এলাকার মাছের খামারে কাজে নিয়ে যাচ্ছিল।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসের উদ্বোধনী বৈঠকে যোগ দিয়ে মিশরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবোলি এই দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবার ও আহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মাদবোলি জানান, তিনি পোর্ট সাইদ প্রদেশের গভর্নরের প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই ঘটনার নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন।

মিশরের সড়কগুলোয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা একটি সাধারণ ঘটনা। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান, যার অধিকাংশই ঘটে মাইক্রোবাস এবং ভারী ট্রাকের সংঘর্ষে। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত গতি, সড়কের বেহাল দশা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে শিথিলতাকে এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গত বছরের জুনেও একটি ট্রাকের সঙ্গে মিনিবাসের সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন কিশোরী।

এমন পরিস্থিতিতে, মৎস্যজীবীদের মতো খেটে খাওয়া মানুষেরা তাদের কর্মক্ষেত্রে পৌঁছানোর পথে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে চিন্তিত। তদন্তের ফলাফলের পাশাপাশি, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ জনগণ।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button