ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে আঘাতের পর কেন বাড়ল উপসাগরীয় তেল দাম?

জাতিসংঘের স্বাধীন সংবাদদাতা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই সংঘর্ষের সরাসরি ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে গেছে। আগের তীব্র অস্থিরতার মধ্যে আরেকটি উত্তেজনা জুড়ে দিয়েছে এই ঘটনাটি।
ইরান এই আক্রমণের পেছনে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে তাদের গোয়েন্দা প্রধান ইসমাইল খাতিবের নির্মূলকরণ। আগে ইসরাইলি হামলায় ইরানের এই শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধান নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। ইরান দাবি করেছে, তারা নিজেদের জ্বালানি খাতে কোনো আঘাত আসলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। এর মধ্যেই এসেছে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে সরাসরি আক্রমণের ঘটনা।
এই দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিয়ে আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ তাদের অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা আক্রমণে জড়িত ছিল না। অন্যদিকে, ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের গোয়েন্দা প্রধানের মৃত্যুর বিচারের মাধ্যমে তারা প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর।
প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে প্রচণ্ড তীব্রতা লেবাননসহ পূর্বাঞ্চলীয় মানুষের জন্য অনিশ্চিত সময় তৈরি করেছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে জরুরি অবস্থার আদেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের বাইরে আশ্রয় খোঁজা জরুরি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষকে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, শীঘ্রই সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কেননা, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে শস্য ও অন্যান্য পণ্যের দামও ক্রমশ বেড়ে চলছে।
ফ্রান্স সহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ এই উত্তেজনা দমনে শান্তির আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু জঙ্গি গোষ্ঠী ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে সংঘাত চলতেই আছে। আগামী দিনগুলোতে পারস্য উপসাগরে কী ধরনের অগ্রগতি হবে, তা জাগতিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলবে।





