আন্তর্জাতিক

ইরান অটুট, তবে দুর্বল: মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা তুলসী গ্যাবার্ড সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনও অটুট রয়েছে, তবে তাদের নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বৈশ্বিক হুমকি বিষয়ক এক সংসদীয় শুনানিতে তিনি এই তথ্য জানান।

মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দেওয়া সাক্ষ্যে তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, ইরানের শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েনি, তবে তাদের নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলার কারণে এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই শুনানির ঠিক একদিন আগেই মার্কিন ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেন যে, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো ‘অনিবার্য হুমকি’ ছিল না এবং এই যুদ্ধের জন্য তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তবে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ কেন্টের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, ইরান দীর্ঘ সময় ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি হুমকি ছিল এবং বর্তমানেও এটি তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিদ্যমান।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য হুমকি। মূলত এই কারণেই উপসাগরীয় দেশটিতে হামলা চালানো হয়েছিল।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় (২০২৫ সালের জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধ) ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন গ্যাবার্ড। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মূল্যায়ন করেছে যে, ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর যে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল, দেশটি তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল এবং পারমাণবিক বাধ্যবাধকতা মানতে অস্বীকার করে আসছিল।

এদিকে, লিখিত বক্তব্যে গ্যাবার্ড আরও দাবি করেছিলেন যে, ওই হামলায় ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি তছনছ হয়ে গেছে এবং ইরান তা পুনর্গঠনের কোনো চেষ্টাই করেনি। তবে জনসমক্ষে তিনি এই অংশটি এড়িয়ে যান। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার এর কারণ জানতে চাইলে গ্যাবার্ড জানান, বক্তব্য দীর্ঘ হওয়ায় তাকে কিছু অংশ বাদ দিতে হয়েছে। ওয়ার্নার এর জবাবে বলেন, এর অর্থ দাঁড়ায় যে তিনি এমন অংশ বাদ দিয়েছেন যা প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক ছিল।

হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য সংকট সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাভাসের বিষয়ে তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ ছিল যে ইরান সম্ভবত এই গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথটি নিজেদের দখলে নেবে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ আগেভাগেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল।

ট্রাম্পের ইরানে হামলার সিদ্ধান্তের সঙ্গে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কতটা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়েও আইনপ্রণেতারা জানতে চান। সিআইএ পরিচালক র‍্যাটক্লিফ জানান, তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনেক বৈঠকে ছিলেন, তবে নির্দিষ্ট কোনো মুহূর্ত তার জানা নেই, যেখানে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল।

ইরানের শাসনব্যবস্থা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই দ্বিমত সত্ত্বেও, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button