মার্কিন দূতাবাসগুলোতে জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশ: বিশ্বজুড়ে ছড়াচ্ছে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং বিশ্বব্যাপী মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার প্রেক্ষাপাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে ‘অবিলম্বে’ নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বাক্ষরিত এক জরুরি বার্তায় এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি মিশনকে তাদের নিজস্ব ‘ইমার্জেন্সি অ্যাকশন কমিটি’র (ইএসি) সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত এবং বর্তমান নিরাপত্তা অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম বিশ্বব্যাপী একযোগে সব মার্কিন মিশনকে এমন কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হলো, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকেই তুলে ধরছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এই নির্দেশনার পেছনে গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কেবল ইরাকের মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোই মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে অন্তত ২৯২টি হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলায় ভবনের একাংশ ধসে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও কানাডার টরন্টোতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে গুলিবর্ষণ এবং নরওয়ের অসলোতে দূতাবাস সংলগ্ন এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের জন্য এক ‘অবিরাম’ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির তীব্রতা আরও স্পষ্ট হয়েছে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের আবাসস্থলে ঘটা একটি সাম্প্রতিক ঘটনায়। সেখানে একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরিত না হওয়া ‘ওয়ারহেড’ বা যুদ্ধাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। যদিও এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে এটি মার্কিন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। কিছু দেশে সশস্ত্র ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টার খবরও পাওয়া গেছে, যা স্টেট ডিপার্টমেন্টকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেক দেশ থেকে ইতিমধ্যে অ-প্রয়োজনীয় মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি মিশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই নিরাপত্তা পর্যালোচনার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও বলেছে যে, ইএসি বৈঠক তাদের নিয়মিত দাপ্তরিক প্রক্রিয়ারই অংশ। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, বিশ্বজুড়ে সব মিশনের জন্য এমন একযোগে নির্দেশ দেওয়া মোটেও সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মার্কিন কূটনৈতিক ও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ওয়াশিংটনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, ওয়াশিংটন কীভাবে তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে শান্ত রাখে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।





