আন্তর্জাতিক

২৯ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ ফিরল কিউবায়, তবুও লোডশেডিংয়ের শঙ্কা!

দীর্ঘ ২৯ ঘণ্টারও বেশি সময় পর কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পুনরায় সচল হয়েছে। দেশটির জ্বালানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহত্তম তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার মাধ্যমে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হলেও, উৎপাদন ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ সংকট পুরোপুরি কাটেনি এবং লোডশেডিং অব্যাহত থাকতে পারে।

প্রায় এক কোটি মানুষের দেশ কিউবায় সোমবার (১৬ মার্চ) রাতভর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থার পর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টা ১১ মিনিটে জাতীয় গ্রিড পুরোপুরি চালু হয়। যদিও কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ঘোষণা করেছে, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ায় সাধারণ মানুষকে লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

কিউবার জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে বলেছেন, তিনি দেশটি নিয়ে ‘যা খুশি করতে পারেন’। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য কিউবা সরকারকেই দায়ী করে এটিকে ‘ব্যর্থ শাসনের অযোগ্যতার লক্ষণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। এর জবাবে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সম্পদ, অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব দখলের পরিকল্পনা করছে এবং চাপ সৃষ্টি করে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চায়।

সোমবারের এই জাতীয় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি কিউবা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বহু পুরোনো অ্যান্তোনিও গুইতেরাস বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মূল ভরসা, তা চালু হলেও জ্বালানি সংকট ও পুরোনো অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো চাহিদার তুলনায় অনেক কম। চলতি বছরে কিউবা মাত্র দুটি ছোট জাহাজে তেল আমদানি করেছে, যা সংকটের গভীরতাকেই ইঙ্গিত করে।

এই গুরুতর পরিস্থিতি সামাল দিতে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর অন্যতম ভয়াবহ সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও চলমান আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘বড় সিদ্ধান্ত’ আসার ইঙ্গিত এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র কিউবার অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ‘বড় পরিবর্তন’ আনার দাবির মুখে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। হাভানা জানিয়েছে, তারা সমান ভিত্তিতে আলোচনায় রাজি হলেও, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ মানবে না। ফলে কিউবার কোটি কোটি মানুষ এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button