আমেরিকায় বাড়ছে গ্যাসের দাম, হোয়াইট হাউজ বলছে… কমবে!

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে চলমান অস্থিরতার জেরে যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুতগতিতে বাড়ছে পেট্রোলের দাম, যা সাধারণ আমেরিকানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। কিছু কিছু রাজ্যে প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম ৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউজ দাবি করছে, এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল সাময়িক এবং দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের দাম কমে আসবে।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের দাম কমিয়ে আনবে। তার মতে, জাতীয় নিরাপত্তার এই লক্ষ্য পুরোপুরি পূরণ হলে আমেরিকানরা দেখবেন তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত পড়ে যাবে, এমনকি অপারেশন শুরুর আগের চেয়েও কম হতে পারে। লেভিট আরও যোগ করেন, এর মাধ্যমে ইরান আর পারমাণবিক বোমা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের হুমকি দিতে পারবে না।
তবে, হোয়াইট হাউসের এই আশ্বাসের বিপরীতে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম ছিল ৩.৪৮ ডলার, যা আগের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি। মঙ্গলবার তা আরও বেড়ে ৩.৫৪ ডলার হয়েছে, অর্থাৎ ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি। অঞ্চলভেদে দামের ব্যাপক পার্থক্য দেখা যাচ্ছে; ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন ৫.২০ ডলারে বিক্রি হলেও, কানসাসে একই পরিমাণ তেল মিলছে মাত্র ২.৯২ ডলারে।
মূলত, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণে পারস্য উপসাগর থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম। ইরানের হুমকির কারণে তেলবোঝাই ট্যাংকারগুলো আক্রমণের ভয়ে বন্দরেই আটকা পড়ছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো বড় উৎপাদক দেশগুলোও সতর্কতা হিসেবে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন ট্যাংকারগুলোকে ‘রাজনৈতিক ঝুঁকির বিমা’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে এবং প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী দিয়ে পাহারা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্প নিজেও সামাজিক মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তেল ট্যাংকার ঠেকানোর চেষ্টা হলে ইরানকে ‘এখন পর্যন্ত যা হয়েছে তার চেয়ে বিশ গুণ বেশি’ আঘাত করা হবে।
হোয়াইট হাউসের এই দাবি কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়ে গেছে। একদিকে দ্রুত বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম দৈনন্দিন জীবনে চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের দীর্ঘমেয়াদী মূল্যহ্রাসের আশ্বাস ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণ যোগাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকানরা আশা করছেন, প্রশাসনের পদক্ষেপগুলো দ্রুত জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল করব





