মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সর্ববৃহৎ হামলা। দূনী ইরানের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে তারা এবারই সবচেয়ে তীব্র ও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, গত রাতভর এই হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তেহরান দাবি করেছে, এই হামলায় দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহর’ ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, এই পরিকল্পিত ও শক্তিশালী হামলা অব্যাহত থাকবে এবং শত্রুর সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া তারা অন্য কিছু ভাবছে না। পাশাপাশি, তাদের দেশের ওপর থেকে যুদ্ধের হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, এই আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, শত্রুকে সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে, এই হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে বুধবার সকালে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সতর্কতার পরই এই সাইরেন বাজানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি এমন কঠোর অবস্থান এবং ইসরায়েলের ওপর নতুন করে হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং বিশ্বজুড়ে সবার দৃষ্টি এখন পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন, এই সংঘাতের চূড়ান্ত পরিণতি কী হতে পারে।





