আন্তর্জাতিক

শান্তিচুক্তি সত্ত্বেও কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডে থাই বাহিনীর দখলদারিত্ব: ৮০ হাজার মানুষের ঘরে ফেরা অনিশ্চিত!

গত বছর মাসের পর মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাত শেষে একাধিক শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হলেও থাইল্যান্ড এখনও কম্বোডিয়ার বিভিন্ন অংশ দখল করে রেখেছে বলে জানিয়েছেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত। তিনি বলেন, থাই বাহিনীর এই দখলদারিত্বের কারণে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ তাদের নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছে না।

মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুন মানেত জানান, থাই সেনারা কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডের অনেক গভীরে ঢুকে পড়েছে, যা থাইল্যান্ডের নিজস্ব দাবিরও বাইরে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো অভিযোগ নয়, বরং ভূখণ্ডের বাস্তব পরিস্থিতি। ২০২৩ সালে তার বাবার স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এটিই ছিল হুন মানেতের প্রথম সাক্ষাৎকার।

যদিও থাইল্যান্ড তাৎক্ষণিকভাবে এই অভিযোগের কোনো জবাব দেয়নি, তবে পূর্বে থাই সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন যে তাদের অভিযান কেবলমাত্র থাই ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। হুন মানেত অভিযোগ করেন, থাই সেনারা সেই সব এলাকায় কন্টেইনার এবং কাঁটাতারের বেড়া বসিয়েছে, যা থাইল্যান্ড নিজেও পূর্বে কম্বোডিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এর ফলস্বরূপ প্রায় ৮০ হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়িতে ফিরতে পারছে না।

গত বছর কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত সংঘাতে বহু মানুষ নিহত হন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এই সংঘাত জাতীয়তাবাদী মনোভাবকে উস্কে দিয়েছিল এবং প্রাচীন মন্দির ধ্বংসের কারণ হয়েছিল। আল জাজিরার প্রতিবেদন এবং স্বাধীন ম্যাপিং প্রচেষ্টা পুরসাত এবং বান্টি মেঞ্চেইসহ বেশ কয়েকটি প্রদেশে থাই স্থাপিত কন্টেইনার এবং কাঁটাতারের বেড়ার উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।

হুন মানেত থাইল্যান্ডকে উভয় দেশের যৌথ সীমান্ত কমিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সীমান্ত চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করার আহ্বান জানান। থাইল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচনের কারণে এই প্রক্রিয়া এতদিন মন্থর ছিল, যে নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও তার ভুমজাইথাই পার্টি সুস্পষ্ট জয় পেয়েছে। হুন মানেত বলেন, “এখন নির্বাচন শেষ হয়েছে, আমরা আশা করি থাইল্যান্ড অন্তত প্রযুক্তিগতভাবে… সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সীমান্ত চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করতে পারে, যাতে আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারি।”

যুক্তরাষ্ট্র গত অক্টোবরে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিল, কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার সংঘাত শুরু হয়। এরপর চীনের মধ্যস্থতায় একটি নতুন চুক্তি এই বছরের শুরু থেকে কার্যকর রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কম্বোডিয়ার সাধারণ মানুষ এখন সীমান্ত চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হওয়ার এবং তাদের ভিটেমাটিতে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

এই বিভাগের আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button