মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছিলেন মোজতবা; কে এই নতুন নেতা?

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় সন্তান। সোমবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
৮৮ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নিয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট’ ভোটাভুটির মাধ্যমে মোজতবাকে দেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে। একই সঙ্গে অ্যাসেম্বলি নতুন নেতার প্রতি সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার স্ত্রী, মেয়ে এবং কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাসহ নিহত হন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের নেতৃত্ব দিয়ে আসা এই শীর্ষ ধর্মীয় নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করতে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছিল ওয়াশিংটন।
ওই হামলায় প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার ছেলে মোজতবা খামেনিকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত সে সময় তিনি তেহরানে উপস্থিত ছিলেন না এবং এ কারণে প্রাণে রক্ষা পান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স দুটি ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। হামলায় নিহত হওয়ার সময় মোজতবা কোথায় অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন। তিনি মধ্যম সারির আলেম হিসেবে পরিচিত হলেও দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই তার বিশেষ প্রভাব রয়েছে। কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত এই ধর্মীয় নেতা প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর দ্রুত মোজতবা খামেনির এই উত্থান ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, নতুন এই কট্টরপন্থি নেতা কিভাবে দেশের কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেবেন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনবেন।





