ইরান নিয়ে চীনের কঠোর বার্তা: চলবে না সরকার বদলের চেষ্টা!

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, কোনো ধরনের ‘কালার রেভল্যুশন’ বা সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা জনগণের সমর্থন পাবে না। রবিবার বেইজিংয়ে একটি বার্ষিক বৈঠকের ফাঁকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ওয়াং ই আরও বলেন, ইরানসহ সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান, যাতে সংঘাত আরও না বাড়ে এবং এর প্রভাব অন্য কোথাও ছড়িয়ে না পড়ে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এটি এমন এক যুদ্ধ যা হওয়া উচিত ছিল না এবং যা কারও জন্যই ভালো নয়।
তিনি আরও বলেন, শক্তি কোনো সমাধান দেয় না, বরং সশস্ত্র সংঘাত শুধু ঘৃণা বাড়ায় ও নতুন সংকট তৈরি করে। ওয়াং ই স্পষ্ট করেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণই তাদের অঞ্চলের প্রকৃত মালিক এবং ওই অঞ্চলের বিষয়গুলো সেখানকার দেশগুলোকেই স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান। বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে ওয়াং ই বলেন, শক্তিশালী বজ্রমুষ্টি মানেই শক্তিশালী যুক্তি নয়, পৃথিবী আবারও জঙ্গলের আইনে ফিরে যেতে পারে না। তিনি সকল পক্ষকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান, যাতে সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করা যায় এবং যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। চীন আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়, সেখানকার মানুষের জীবনে শান্তি ফিরে আসে এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
এদিকে, একটি গোপনীয় মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বড় আকারের সামরিক হামলা চালালেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতা কাঠামো উৎখাত করা সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম। শনিবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে, শ্রেণিবদ্ধ নথিটি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবিকে দুর্বল করে দিয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে তিনি ইরানের নেতৃত্বকে সরিয়ে নিজের পছন্দের উত্তরসূরি বসাতে পারেন। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, এমন ফলাফল মোটেও নিশ্চিত নয়। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার মুখে থাকলেও রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এখনও দৃঢ় ও অটুট রয়েছে।





