আরেক অবৈধ যুদ্ধে যুক্তরাজ্য? জেরেমি করবিনের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাজ্যকে ‘আরেকটি অবৈধ যুদ্ধে’ জড়িত না হওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন। ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে শনিবার লন্ডনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তিনি এই আহ্বান জানান।
মার্কিন দূতাবাসের বাইরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে এক বিবৃতিতে জেরেমি করবিন ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, সেই যুদ্ধের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও তৎকালীন সরকারকে উপেক্ষা করা হয়েছিল, যার ফলস্বরূপ একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। জনগণের এমন জোরালো আপত্তির পরও যুদ্ধ শুরু হলে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসে অশেষ দুর্ভোগ।
করবিন তার বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য অন্ধভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করে আসছে, কারণ এটি বিশ্বজুড়ে বিপর্যয়কর হস্তক্ষেপে লিপ্ত। আমরা এখানে এমন একটি ভিন্ন পররাষ্ট্র নীতি রক্ষার জন্য এসেছি যা সহযোগিতা, সমতা এবং সার্বভৌমত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।’ তার এই মন্তব্য যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র নীতির পুনর্মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে জনগণের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষ শঙ্কিত যে, অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে তার ফল হবে মারাত্মক।
সাবেক এই নেতার এমন স্পষ্ট বার্তা বর্তমান সরকারকে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার জন্য চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। জনগণের দুশ্চিন্তা এখন একটাই, যুক্তরাজ্য কি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি স্বাধীন ও জনমুখী পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করবে, নাকি আরও একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে?





