ভারতের হোলি: উৎসবের নামে নারীর প্রতি ভয়ংকর হয়রানি

ভারতে রঙের উৎসব হোলি মানেই আনন্দ আর উল্লাস। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই উৎসবকে ঘিরে নারীদের প্রতি যৌন হয়রানি ও আক্রমণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। বহু নারী এখন হোলিকে ভয়ের উৎসব হিসেবে দেখছেন। ঐতিহ্যগতভাবে এই উৎসব বসন্তের আগমন এবং রঙের খেলায় মেতে ওঠার দিন হিসেবে পরিচিত হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
একসময় ‘বুরা না মানো, হোলি হ্যায়’ (কিছু মনে করো না, হোলি তো) – এই বাক্যটি দিয়ে নিরীহ দুষ্টুমিকে বোঝানো হতো। কিন্তু আজকাল এই অজুহাতকে ব্যবহার করে একশ্রেণীর পুরুষরা নারীদের গায়ে রঙ মাখানো বা স্পর্শ করার সুযোগ নেয়, যা প্রায়শই যৌন হয়রানির পর্যায়ে চলে যায়। এর ফলে অনেক নারী, যারা হোলি খেলতেও চান না, তারাও রাস্তাঘাটে হয়রানির শিকার হন। তাদের লক্ষ্য করে পানির বেলুন ছোড়া হয়, অশ্লীল মন্তব্য করা হয়, এমনকি অপ্রীতিকরভাবে স্পর্শ করা হয়।
২০১৮ সালে বিবিসি এক প্রতিবেদনে হোলিকে কেন্দ্র করে ‘বীর্য ভর্তি’ বেলুন দিয়ে নারীদের আক্রমণের খবর প্রকাশ করেছিল, যা এ উৎসবের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। এছাড়া, বলিউডের বিভিন্ন সিনেমা ও গানেও হোলির নামে যৌন হয়রানিকে অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে দেখানো হয়েছে, যা সমাজে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হোলি শুধু একটি উৎসব নয়, এটি ভারতের সমাজের বৃহত্তর দুর্বলতাগুলোরই প্রতিচ্ছবি। যেখানে উদযাপনকে তামাশায় এবং তামাশাকে সামাজিক ব্যর্থতার দর্পণে পরিণত করা হচ্ছে। একসময় হোলি ছিল বসন্তের আনন্দ আর রঙের খেলা। কিন্তু বর্তমানে এই উৎসবটি নারীদের জন্য এক ভীতিকর অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে। সমাজের এই পরিবর্তন একদিকে উৎসবের আসল সৌন্দর্য কেড়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে। উৎসবের নামে নারীর প্রতি এমন আচরণ বন্ধ করতে সামাজিক সচেতনতা ও কড়া পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





