তুরস্কের দিকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র: ন্যাটোর দাবি, তেহরানের অস্বীকার!

ন্যাটোর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরে ইরান থেকে ছোঁড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে, এই অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে ইরান, জানিয়ে তারা তুরস্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান থেকে ছোঁড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরাক ও সিরিয়ার আকাশপথ পাড়ি দিয়ে তুরস্কের আকাশসীমার দিকে আসছিল। ন্যাটোর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো সেটিকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এরপরও আঙ্কারা নিজেদের বিরুদ্ধে যেকোনো “শত্রুতামূলক পদক্ষেপের” জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে এবং সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা তুরস্কের ভূখণ্ডে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেনি। ইরান তুরস্কের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং এই ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে বলেছেন, তার দেশ ন্যাটোর মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করে সব প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে “পরিষ্কার ভাষায় সতর্কবার্তা” জারি করা হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান তার ইরানি প্রতিপক্ষকে আঙ্কারার প্রতিবাদের কথা জানিয়েছেন।
ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট ইরানের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন এবং তুরস্কসহ সব মিত্র দেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ন্যাটোর প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা ক্ষমতা, বিশেষ করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, সব ক্ষেত্রে শক্তিশালী রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ অবশ্য বলেছেন, এই ঘটনা ন্যাটোর আর্টিকেল ৫ ধারা (যা অনুযায়ী এক সদস্যের ওপর হামলা মানে সব সদস্যের ওপর হামলা) কার্যকর করবে বলে মনে হয় না। তুরস্কের ইনসিরলিক বিমান ঘাঁটি, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য ন্যাটোর মিত্রদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়, এই অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কৌশলগত অবস্থান।
এই ঘটনা পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তুরস্ক তাদের সীমান্ত ও আকাশসীমার নিরাপত্তায় “কোনো কিছুকেই হালকাভাবে নিচ্ছে না” বলে জানিয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা ও নজরদারি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।





